![]() |
| নিহত শিশু আলামিন | ছবি সংগৃহীত |
নিহত শিশু আল-আমিনের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার বড়বাকা এলাকায়। গত ২৮ আগস্ট সকালে বাড়ির সামনে সাইকেল চালাতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরের দিন সিঙ্গাইর থানায় গিয়ে ছেলের নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন বাবা শহিদুল ইসলাম। ৩১ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে পার্শ্ববর্তী বেরুন্ডি গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখা অবস্থায় আল–আমিনের লাশ পাওয়া যায়।
হত্যার পাঁচ দিন পর গতকাল শুক্রবার রাজবাড়ি থেকে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের হেডকোয়াটার্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মানিকগঞ্জ ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর আলম।
পরিকল্পনা ছিল মোটরসাইকেল কিনবে। এরপর তা দিয়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে শোডাউন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করবে। কিন্তু মোটরসাইকেল কেনার টাকা ছিল না তিন কিশোরের। তাই তারা কাউকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনামাফিক তারা সাত বছরের আল–আমিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর শিশুটিকে হত্যা করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তার জামাকাপড় খুলে নেয়।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শিশু আল–আমিন হত্যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য তথ্য–উপাত্ত সংগ্রহ করি। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসপি জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য যে কাউকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একজন আল-আমিনকে বন্যার পানি দেখানোর কথা বলে সাপের ভিটায় (বড় বাঁশঝাড়) নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাঁশঝাড়ের পাশে চাপা দেয় কিশোরেরা। তবে আল-আমিনের পরনের গেঞ্জি ও প্যান্ট মুক্তিপণ আদায়ের জন্য প্রমাণ হিসেবে খুলে রাখে তারা।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, হত্যাকারীদের পরিকল্পনা ছিল শিশুটিকে হত্যার পর নতুন সিম থেকে স্বজনদের ফোন দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করবে। কিন্তু ঘটনার দিন নতুন সিম সংগ্রহ করতে না পারার কারণে আল-আমিনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি তারা। আর এরই মধ্যে স্থানীয় লোকজন শিশুটির লাশ পেয়ে যাওয়ায় তারা এলাকা ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পালানোর জন্য প্রথমে তারা মানিকগঞ্জ থেকে সাভারে এসে একটি হোটেলে ওঠে। সেখানে হোটেল বয়ের ফোন থেকে ওই শিশুর বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় তাদের একজন।
এরপর ধরা পড়ার ভয়ে সাভার থেকে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে চলে যায়। সেখান থেকে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে ব্যর্থ হয়। পরে সেখান থেকে পালিয়ে রাজবাড়ীতে আত্মগোপন করে তারা। সে সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে পিবিআইয়ের জালে তারা ধরা পড়ে।

0 মন্তব্যসমূহ
if you have any doubts please let me know