![]() |
| লিটন দাস আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড দল | ছবি: সংগৃহীত |
অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ। এর আগে প্রথম তিন ম্যাচ জিতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও টানা দুই ম্যাচ জেতার পর সিরিজ জয় নিশ্চিত করার সম্ভাবনা ছিল স্বাগতিকদের। তবে এবার আর অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পুনরাবৃত্তি হয়নি, উল্টো ঘরের মাঠে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হয়ে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৬০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পর সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়ে উজ্জীবিত নিউজিল্যান্ডের ক্যাম্পে এখন রীতিমত লড়াইয়ের উন্মাদনা! এ সফরে কিউইদের প্রধান কোচ গ্লেন পোকন্যাল বলছেন, বাংলাদেশের আগুনের জবাব তাঁরা দেবেন আগুন দিয়েই
টি-টোয়েন্টিতেও ঘরের মাঠের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তা দেয়নি বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের এ দল দ্বিতীয় সারির। ফলে কিউইদের চ্যালেঞ্জও ছিল আরও বেশি। প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর শুধু তৃতীয় ম্যাচ জয়েই সন্তুষ্ট নয় নিউজিল্যান্ড। তাদের কাছে ব্যাপারটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। আগের দিনই ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস বলেছেন, উন্নতির এখনো অনেক সুযোগ আছে তাদের।
এবার পোকন্যাল বলছেন, বাংলাদেশ ছেড়ে কথা বলবে না। তবে প্রস্তুত তাঁরাও, শুধু আমাদের বিপক্ষে নয়, বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গেই তাদের ঘরের মাটিতে রেকর্ড অসাধারণ। হারের পর স্বাভাবিকভাবেই তারা ঘুরে দাঁড়াবে শক্তভাবে, আগের হারটাও নিশ্চয়ই খোঁচাচ্ছে তাদের। (তবে) আমরা অবশ্যই তাদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত। তবে বলতে গেলে, আমরা আগুনের জবাব আগুন দিয়েই দেব, আমাদের সে সামর্থ্য আছে।
আপাতত চতুর্থ ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা আনাই লক্ষ্য কিউইদের, আমাদের সামনে বাধাটা বড়, এটা ভালোই। তবে খুবই কাছাকাছি আছি আমরা। কাল ২-২ করতে পারলে শেষ ম্যাচ নিয়ে ভাবব। ছেলেরা প্রস্তুত, এটা দারুণ একটা ব্যাপার।
নিয়মিত কোচ গ্যারি স্টিডকে বিশ্রাম দিয়ে পোকন্যালকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ সফরে। কিউইদের কোচ হিসেবে প্রথম জয়ের স্বাদটাও তাই দারুণ ঠেকছে পোকন্যালের কাছে, এটা আসলে অসাধারণ। ছেলেরা অনেক পরিশ্রম করেছে বলে এই অনুভূতি বিশেষ কিছু। তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে, কীভাবে খেলব সেটা নিয়ে। যেসব নিয়ে কথা বলেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারা খুবই ভালো একটা অনুভূতি। এখানে খেলাটা খুবই চ্যালেঞ্জিং, শেষ ম্যাচে ছেলেরা যা করেছে, সেটা নিয়ে তাই গর্বিত আমি। তারা দেখিয়েছে, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে যেকোনো কিছুই সম্ভব। এটা রোমাঞ্চকর, আমরা আরও এগোতে চাই।
শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড স্পিনাররা কন্ডিশন কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে। এর আগে নিউজিল্যান্ডকে লড়াই করার মতো স্কোর এনে দিয়েছিলেন টম ব্লান্ডেল ও হেনরি নিকোলস। পোকন্যাল বলছেন, এ কন্ডিশনে মাঝেমধ্যে ওয়ানডের মাঝের ওভারের মতো করে ব্যাটিং করতে হবে—ঝুঁকি না নিয়ে একটা জুটি গড়ার পর আক্রমণে যাওয়া।
তবে এখনো যাঁরা এমন কন্ডিশনে জ্বলে উঠতে পারেননি, তাঁদের জন্যও পোকন্যালের বার্তাটা পরিষ্কারই, খুবই সূক্ষ্ণ। তবে নিজের প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার হারই বেশি। এ কারণে নিজের প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মধ্যে এ ব্যাপারই ঢুকানোর চেষ্টা করছি আমরা। প্রথম তিন ম্যাচে অনেকেরই নিজের দিনটা এসেছে। সবারই আসবে। যদি দারুণ সময় কাটানো খেলোয়াড়ের সংখ্যা আরও বাড়ে আগামীকাল, তাহলে আমরা দারুণ একটা অবস্থানে থাকব।

0 মন্তব্যসমূহ
if you have any doubts please let me know