![]() |
| উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিনফাইল | ছবি: রয়টার্স |
দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা ভাবছে ফিফা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিভাবক এই সংস্থার ধারণা, বিশ্বজুড়ে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করতে এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বকাপে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো দরকার। আর দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন করা হলেই সে সুযোগ বাড়বে।
ফিফার বিশ্ব ফুটবল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন আর্সেনালের কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার। ছোট দলগুলোর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং বিশ্বকাপের সময়ের উন্মাদনা কাজে লাগানোকে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নের শ্রেষ্ঠ উপায় মনে হচ্ছে ওয়েঙ্গারেরও। আর সেটা যেন বেশি বেশি করা যায়, সে উদ্দেশ্যেই বিশ্বকাপের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ফিফার সদস্য দেশগুলোর সিংহভাগ এ প্রস্তাবে রাজি বলে জানা গেছে। কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের ফুটবল ফেডারেশন এ ব্যাপারে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
এমন উৎসাহের মধ্যে জল ঢেলে দিচ্ছে উয়েফা। দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রধান আলেকসান্দর সেফেরিন।
দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব নিয়ে অধিকাংশ ইউরোপিয়ান দলই বিরক্তি প্রকাশ করছে। শীর্ষ লিগের ক্লাবগুলোর ব্যস্ত সূচির মধ্যে দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অস্বস্তির কথা ইঙ্গিতে জানিয়ে দিয়েছে দলগুলো। আনুষ্ঠানিক বার্তায় সেফেরিন সে সুরেই কথা বললেন।
![]() | |
| ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন বেশ ফাইল ছবি: রয়টার্স |
ফুটবল সাপোর্টারস ইউরোপের কাছে এক চিঠিতে সেফেরিন বলেছেন, খেলায় বাজে প্রভাব পড়বে বলে এই গ্রুপ যেসব শঙ্কার কথা জানিয়েছে, সেগুলোকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে তাঁর। ‘ফিফার পরিকল্পনা নিয়ে যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেসব নিয়ে উয়েফা এবং এর জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলো বেশ সতর্ক এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলেছেন সেফেরিন। এটাও বলেছেন, ‘ফিফার এই কার্যক্রম উয়েফা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং পুরো বিষয়টি খোলাসা করে জানবে।
ফুটবল সাপোর্টারস ইউরোপের নির্বাহী পরিচালক রোনান ইভেইনকে লেখা চিঠিতে সেফেরিন আরও লিখেছেন, আমি আশ্বস্ত করছি, এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে ভক্তদের পাশেই আছে উয়েফা। খেলার ভালোর জন্য এবং এই খেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সমর্থকদের জায়গা ধরে রাখার ব্যাপারে আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে।
প্রতি দুই বছর পর বিশ্বকাপ আয়োজনের এই প্রস্তাব সৌদি আরব দিয়েছে গত মে মাসে। মাইকেল ওয়েন, ইয়াইয়া তোরের মতো সাবেক খেলোয়াড়দের ব্যবহার করে এ ব্যাপারে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ফিফা। এরই মধ্যে এ প্রস্তাব বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইতিমধ্যে নাকি প্রস্তাবটার সম্ভাবনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের কাছের লোক বলে পরিচিত ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ প্রস্তাবকে জোর সমর্থন দিচ্ছেন। গত শুক্রবার আর্সেন ওয়েঙ্গার ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে কিপকে বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে সেফেরিন এ প্রস্তাবের পেছনে কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। বরং কোনো রকম আলোচনা ছাড়া এমন এক প্রস্তাব পাস করে ফেলার চেষ্টায় যে খুবই বিরক্ত হয়েছেন, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন, এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে ফুটবলেই যে বিরাট প্রভাব পড়বে, সেটা জানা কথা। তবু ফেডারেশন, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, লিগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, কোচ এবং ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই কেন ফিফা এভাবে প্রচারাভিযান চালাচ্ছে, সেটা ভেবে সবাই বিস্মিত।


0 মন্তব্যসমূহ
if you have any doubts please let me know