![]() |
| হেফাজতে ইসলাম এর লোগো |
নানামুখী চাপে স্বস্তিতে নেই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো। করে গত মার্চে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় ব্যাপক ধরপাকড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে হেফাজতে ইসলাম। যার প্রভাব পড়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর। জামাত ইসলাম তো বহুদিন ধরেই রাজপথে নেই।
ধর্মভিত্তিক দলগুলোর দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনায় প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাঁদের বেশির ভাগই ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থক। এর ফলে বেশি চাপে ইসলামপন্থী দলগুলো।
বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে যা দেখা যাচ্ছে তা হল বর্তমান আলেমদের অনেকেই সরকারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। এঁদের কেউ মামলা থেকে বাঁচতে, আবার কেউ নিজের প্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থল থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছেন।
![]() |
| জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর লোগো |
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক ধরপাকড়ে বেশি চাপে পড়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ তিনটি দল। অন্য শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহমাতুল্লাহ আলাই প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস। বর্তমানে এই তিনটি দলের মহাসচিব সহ শত শত সমর্থক গ্রেফতার রয়েছে। এর বাইরে মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহমাতুল্লাহ আলাই এর দল ইসলামী ঐক্যজোটের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং দলটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কিছু নেতা কর্মীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাঁরা হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর একাধিক নেতা জানান, এই সময়ে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কতটা সংকটে আছে, তার দৃষ্টান্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের বিএনপির জোট ছাড়ার ঘটনা। গত ১৪ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সচিবালয়ে দেখা করে আসার কয়েক ঘণ্টা পর দলটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়।সহিংসতার মামলায় জমিয়তের ৬০ জন নেতা কর্মী আসামি হন। এ পরিস্থিতিই দলটিকে জোট ছাড়তে বাধ্য করেছে।
জমিয়তের বিএনপি জোট ছাড়ার পরপর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন আমি তো তাদের জোট ছাড়তে বলিনি। তাদের যা ভালো লেগেছে তারা তাই করেছেন তাদের এই সিদ্ধান্তের সাথে আমাদের সরকারের কোন যোগসাজশ নেই
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বাহাউদ্দিন জাকারিয়া গত সোমবার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁদের যে ৬০ জন নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৩১ জন গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ১৭ জন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
![]() |
| খেলাফত মজলিস এর লোগো |
প্রয়াত শায়খুল হাদিসের ছেলে আল্লামা মামুনুল হক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলামের পূর্বের কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। গ্রেপ্তারের পর মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছে। এখন মামুনুল হককে রাজনীতিতে আর না জড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানা গেছে।
![]() |
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এর লোগো |
এ ছাড়া প্রয়াত হাফেজ্জী হুজুরের দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলাফেরা করছে বলে দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে জানা যায়। এর বাইরে নিবন্ধিত ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন কোনো জোটে নেই।
ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে সারা বছরেই নানা বিষয়ে সক্রিয় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। তারা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে অংশ নিচ্ছে। যদিও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলটি কোনো উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ২০৪টির মধ্যে ১৪০টিতে তারা প্রার্থী দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটিতে তারা জিতেছে। দলটির অভিযোগ, আওয়ামী লীগের বাধায় তারা ৬৪টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারেনি।
![]() |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর লোগো |
ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান একটি গণমাধ্যমকে বলেন বর্তমানে সবাই চাপে আছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসলামি দলগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় সংকট।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় এখন মাঠে সরকারি দলের প্রতিপক্ষ হয়ে পড়েছেন তাঁরা। ফলে বিএনপির চাপ এখন পুরোটা পড়ছে ইসলামী আন্দোলনের ওপর।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের কাফন দাফন ত্রাণ দেয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করছেন।
![]() |
| ইসলামী ঐক্যজোট এর লোগো |
এক সময় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচাইতে বেশি দাপট ছিল মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোট। এখন কওমি অঙ্গনে দলটি আগের অবস্থানে নেই। এমনকি আল্লামাশাহ আহমদ শফীর মুত্যুর পর হেফাজতে ইসলামের কমিটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির কারণে মূল ধারার আলেমদের সঙ্গেও দলটির কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
মুফতি আমিনীর মৃত্যুর পর ইসলামী ঐক্যজোট ২০১৬ সালে বিএনপির জোট থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর দলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন আবদুল লতিফ নেজামী। তিনি গত মে মাসে মারা যান।দলীয় সূত্রে জানা গেছে যে দলের উর্দ্ধতন নেতাদের অনুমতি ছাড়াই মুফতি ফজলুল হক আমিনীর ছেলে আবুল হাসনাত আমিনীকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়। এতে দলের অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ দাবি করেন, শুরার সর্বসম্মত অনুমোদনে আবুল হাসনাত আমিনী কে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
ইসলামবিষয়ক লেখক ও গবেষক শরীফ মুহাম্মদ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান সংকট ইসলামি দলগুলোর বর্তমান যে দৃশ্যপট, তাতে এর বাহ্যিক দিকটি হতাশার। তবে ইসলামী দলগুলোর বর্তমান যে পরিস্থিতি হয়েছে এগুলা শুধু ইসলামী দল নয় বরং সরকারের বিরোধী সকল দলের এই একই অবস্থা করা হয়েছে।






0 মন্তব্যসমূহ
if you have any doubts please let me know