![]() |
| ছবি সংগৃহীত |
মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে এক সপ্তাহ ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্রোতের তীব্রতা না কমা পর্যন্ত এই নৌপথে ফেরি ছাড়া হবে না। তবে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝিকান্দি এলাকায় নতুন করে একটি ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা বিভাগ) মতিউল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপত্কালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা মাঝিকান্দিতে একটি ঘাট নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। কাজটি শেষ হতে আমাদের আরও ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগবে। এই ঘাট দিয়ে হালকা যানবাহন পারাপার করা হবে। ভারী যানবাহনের জন্য এই ঘাটের সড়কপথ উপযোগী নয়।’
মতিউল ইসলাম বলেন, ‘মাঝিকান্দিতে একটি ঘাট নির্মাণ করতে আমাদের ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। এখানে যে পন্টুন থাকবে, সেটা বিআইডব্লিউটিসি থেকে সরবরাহ করা হবে। আর ঘাটের সংযোগ সড়কের জন্য এলজিইডি ও সওজকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, তারাও দ্রুত কাজ শেষ করবে।’
বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সূত্র জানায়, পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাট থেকে যানবাহনের যাত্রীদের লঞ্চে পারাপার করা হচ্ছে। সম্প্রতি পদ্মা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে যৌথ সার্ভে সম্পন্ন করা হয়। সার্ভে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পদ্মায় স্রোত না কমা পর্যন্ত এই নৌপথে জরুরি সেবা চালু করতে শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি ঘাটে একটি পন্টুন বসিয়ে ঘাট নির্মাণের কাজ সোমবার শুরু হয়। তবে বাংলাবাজার থেকে আপাতত কোনো পন্টুন বা কোনো সরঞ্জাম স্থানান্তর করা হচ্ছে না। সাময়িকভাবে নতুন একটি পন্টুন মাঝিকান্দি ঘাটে বসানো হবে। বর্তমানে মাঝিকান্দিতে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান আছে।
জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাঝিকান্দি লঞ্চঘাটের পাশে একটি নতুন ঘাট তৈরির কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। আপত্কালীন জরুরি প্রয়োজনে আসা অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও সরকারি গাড়ি পারাপারের জন্য এই ঘাট সাময়িক চালু করা হবে। আরও এক সপ্তাহের মধ্যেই আশা করছি মাঝিকান্দিতে একটি ঘাট চালু হবে।’
সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘মাঝিকান্দি থেকে শিমুলিয়ায় ফেরি আসা-যাওয়ার পথে পদ্মা সেতুর কোনো পিলার পড়বে না। ফলে পদ্মায় তীব্র স্রোতে ফেরিগুলো আর পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা খাবে না। তবে মাঝিকান্দি ঘাটের সংযোগ সড়ক খুবই সরু। সড়ক ও ঘাটের কাজ হচ্ছে। মাঝিকান্দিতে একটি পন্টুন বসানো হবে। পন্টুন বসানো হলে ছোট ফেরি দিয়ে শুরু হবে ফেরি চলাচল।’
এদিকে মাঝিকান্দিতে ঘাট চালু হলে ফেরি পারাপারে কমবে সময়। দুর্ভোগ কমে আসবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের। এ বিষয়ে বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) জামালউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাবাজার থেকে মাঝিকান্দি ঘাটের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটারের একটু বেশি। মাঝিকান্দিতে ফেরি চালু হলে নৌপথের দূরত্ব পাঁচ কিলোমিটার কমে যাবে। তবে মাঝিকান্দি প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়কপথ খুবই সরু।’

0 মন্তব্যসমূহ
if you have any doubts please let me know