| টাঙ্গাইলের সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান | ছবি: সংগৃহীত |
আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি) কারাগারে অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে আজ বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সহিদুর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খানের (রানা) ভাই ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আতাউর রহমান খানের ছেলে। আট মাস ধরে তিনি কারাগারে আছেন। গতকাল মঙ্গলবার ১১ বারের মতো তাঁর জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের জেল সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সহিদুর রহমান আজ সকালে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে কারাগারের চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সহিদুরকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাঁকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ সহিদুরকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে একটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রণব কুমার কর্মকার বলেন, সহিদুরের বুকের ব্যথা পিঠেও ছড়িয়ে পড়ছে। শুতে গেলে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া রক্তচাপও বেড়েছে। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক ছিলেন সহিদুর রহমান খান। গত বছরের ২ ডিসেম্বর তিনি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দী আছেন।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এর তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে এই দুজনের স্বীকারোক্তিতে এই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান, তাঁর তিন ভাই—টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান (কাকন) ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খানের (বাপ্পা) জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এর পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাঁদের অন্য দুই ভাই এখনো পলাতক।
এদিকে সহিদুর কারাগার থেকে মুঠোফোনে বাইরের বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সাংসদ তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির। গতকাল টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মাসিক আইনশৃংঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেল সুপার।
জেল সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কাল বৃহস্পতিবার কমিটির প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর এর কার্যক্রম শুরু করা হবে।
0 মন্তব্যসমূহ
if you have any doubts please let me know